img

আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হতে আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যেই টুর্নামেন্ট ঘিরে বিতর্ক থামছে না। বাংলাদেশ দলের ভারত সফর নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির আলোচনা চলার সময় নতুন করে ভিসা জটিলতা সামনে এসেছে। এই জটিলতা পাকিস্তান বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ঘিরে।

বিষয়টি আলোচনায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের পেসার আলি খানের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পর। সেখানে তিনি দাবি করেন, তার ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়নি। এই দাবি আলাদা করে যাচাই করা যায়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের চার ক্রিকেটারের ভিসা আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন। আবেদন বাতিল হয়নি।

এই ঘটনার ফলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এর আগে দল যাতায়াত ও আয়োজক দেশ নিয়ে প্রশাসনিক টানাপোড়েন দেখা গেছে। এবার ভিসা ইস্যু নতুন করে আলোচনায়।

পাকিস্তান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের চার ক্রিকেটার হলেন আলি খান, শায়ান জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মহসিন ও এহসান আদিল। তারা সবাই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে ভিসার অপেক্ষায় আছেন। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্র দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় আছেন। ফেব্রুয়ারির টুর্নামেন্টের আগে এটিই তাদের শেষ প্রস্তুতি পর্ব।

মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি তারা কলম্বোতে ভারতীয় হাইকমিশনে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে হাজির হন। সেই দিন ভিসা দেওয়া হয়নি। ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদন বাতিল করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনগুলো এখনো পর্যালোচনায় আছে।

একজন আইসিসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব কাগজপত্র আগেই জমা দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে শ্রীলঙ্কার ভারতীয় দূতাবাসে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। আইসিসি যেসব কাগজপত্র আগে জমা দিতে বলেছিল, সবই তারা জমা দেয়। অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় তাদের জানানো হয়, এই মুহূর্তে ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করা যাচ্ছে না।’

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পরে সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র দলের ব্যবস্থাপনা একটি বার্তা পায়। সেখানে বলা হয়, প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আরও কিছু তথ্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসা বাকি। প্রক্রিয়া শেষ হলে খেলোয়াড়দের পরবর্তী ধাপ জানানো হবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা কর্মকর্তারা বলেছেন, পাকিস্তান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের আবেদন আলাদা শ্রেণিতে দেখা হয়। ভারত সরকারের নিয়ম অনুযায়ী এসব আবেদন বিশেষভাবে যাচাই করা হয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়, দল বা টুর্নামেন্টের জন্য নয়। এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।

আগেও পাকিস্তান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা ভিসা পেতে দেরিতে পড়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন মঈন আলি, শোয়েব বশির ও উসমান খাজা। তাদের ক্ষেত্রেও ভারতে সফরের আগে একই ধরনের প্রশাসনিক দেরি হয়েছিল।

কর্মকর্তারা বলেছেন, পাকিস্তান বংশোদ্ভূত আবেদনগুলোর জন্য একাধিক দপ্তরের অনুমতি লাগে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই প্রক্রিয়া খেলাধুলার সংস্থা বা টুর্নামেন্ট আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

একই নিয়ম সব দলের জন্য প্রযোজ্য। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, ওমান ও ইতালির দলেও পাকিস্তান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আছেন। ভারতে সফরের ক্ষেত্রে তাদেরও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ